
সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্র। পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনকারীদের অব্যাহত অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে, পর্যটন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) চতুর্থ দিনের মতো সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। রোববার সকাল থেকে সাজেকের হাজাছড়া, ১০ নম্বর গঙ্গাবাজার ও ১৪ কিলোমিটারসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিকেলে সাজেক মাচালঙ চাপ্পাতুলি এলাকায় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
অবরোধের কারণে সকাল থেকে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বন্ধ রাখা হয়েছে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রও। ফলে পর্যটক না থাকায় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলাকালে নিরীহ মানুষের ওপর হামলার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; উজোবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং বাজার এলাকা থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় প্রশাসনের বহন করা; সাজেক থেকে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি এবং হয়রানি বন্ধ করা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, “আমাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়কে কয়েকটি মোটরসাইকেল চলাচল করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।