
দেড় মিনিটের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে ২৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করে আলোচনায় এসেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সকাল ১১টায় রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তানজিলা তাসনিম। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। সেখানে শতাধিক শাড়ি বিতরণ করা হয়।
বক্তব্যে রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ইউএনও। তিনি বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মানুষও উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে যথাসময়ে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এ ছাড়া রাজারহাটে প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উপহার দেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তানজিলা তাসনিম। ভিজিএফের চাল বস্তাবন্দী করার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। ইউএনওর ভাষ্য, আগে চালের বস্তা ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা হতো। নতুন উদ্যোগে সেসব সমস্যা কমবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল নিয়েও মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ চাকরিজীবীদের কাজের উদ্দীপনা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন তানজিলা তাসনিম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারের ইউএনও থাকাকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক পর্যটককে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্যসচিব সাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা এবং চাকরিজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বক্তব্যে তুলে ধরলেও মন্ত্রীকে বারবার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।