
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদর ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। তারা আপন সহোদর ভাই।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেন ১০ জন
মামলার অপর ১০ আসামি আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালতে মামলার শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।
তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
কাপড়ের দোকানে বসা অবস্থায় হামলা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নান্দাইলের চর ভোলামরির হযরত আরীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আসামিদের আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে হত্যা করা হয়।
ওই দিন নান্দাইলের চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন শফিকুল ইসলাম সবি। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
১৬ জনের সাক্ষ্য শেষে রায়
মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুনানির সময় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তাদের জেরা এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আনোয়ার আজিজ টুটুল। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল।