
হিসাব যাচাই করতে ব্যাংকে এসে আতঙ্কে পড়ছেন একের পর এক গ্রাহক। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখাটিতে ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক হওয়ার পর শতাধিক গ্রাহকের আমানত উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক অর্থ লোপাটের লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে শতাধিক হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রোববার সকাল থেকেই শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় থাকা অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার সামনে গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে। নিজেদের হিসাবের টাকা ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে ব্যাংকের মূল ফটক থেকে বাইরের সড়ক পর্যন্ত অবস্থান নেন অনেকে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন গ্রাহক শ্রীনগর প্লাজার গেটের কাচ ভাঙচুর শুরু করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হিসাব যাচাইয়ের সময় কয়েকজন গ্রাহক দেখতে পান, তাদের হিসাবে থাকা লাখ লাখ টাকা নেই। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একের পর এক হিসাব থেকে অর্থ গায়েব হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শাখাটিতে আতঙ্ক ও আহাজারি শুরু হয়।
ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, রোববার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আরও অনেক গ্রাহক অভিযোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনগর শাখায় আমানত লোপাটের বিষয়টি জানাজানি হলে শত শত গ্রাহক ব্যাংকে ভিড় করেন। তবে তার দুই দিন আগেই ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৪টি হিসাব থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা গায়েব হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ব্যাংকটির প্রবাসী ও নারী গ্রাহকসহ প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ব্যাংকের পলাতক ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শরীফুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার মো. জিন্নাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।’
শরীফুজ্জামানের ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটে নেওয়া অর্থ গ্রাহকেরা ফেরত পাবেন কি না—জানতে চাইলে ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ব্যাংকের অডিট টিম কাজ করছে। এর বাইরে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এরপর গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কতজন গ্রাহকের কত টাকা লোপাট হয়েছে, সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। অভিযোগ গ্রহণ আজই শেষ নয়। কোনো গ্রাহকের হিসাবে অসংগতি ধরা পড়লে তিনি পরবর্তী সময়েও অভিযোগ দিতে পারবেন।