.jpg)
মাত্র দুই মাসের মধ্যে বাগেরহাটের আলীবান্ধা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো বাঘের দেখা মিলেছে। এবার নাইলনের তৈরি সীমানা বেড়া ভেঙে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাঘটি। আকস্মিকভাবে বাঘ সামনে চলে আসায় আতঙ্কিত বনরক্ষীরা নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দুপুরে বাঘটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে।
হরিণের বেষ্টনীর কাছে বাঘ
ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নাইলনের ফেন্সিং বেড়া ভেদ করে একটি বাঘ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে হরিণের বেষ্টনীর কাছাকাছি চলে আসে।
বাঘটি দেখতে পেয়ে বনরক্ষীরা দ্রুত ওয়াচ টাওয়ারে উঠে যান। এ সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষী এবং ভিটিআরটির স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বাঘটিকে বনে ফেরাতে প্রথমে মাইকে বিকট শব্দে হুইসেল বাজানো হয়। এরপর ১০টি আতশবাজি বা পটকা ফোটানো হয়।
পরে বাঘের পায়ের ছাপ পর্যবেক্ষণ করে বিকেল ৫টার দিকে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রাণীটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র ছেড়ে বনে ফিরে গেছে।
বন্য শূকরের কারণে বেড়া কাটা হতে পারে
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমানও বাঘের প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বনরক্ষীরাই বাঘটিকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেখেছেন। তার ধারণা, বন্য শূকর নাইলনের ফেন্সিং বেড়া কেটে ফেলায় তৈরি হওয়া সেই ফাঁক দিয়েই বাঘটি ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে।
খলিলুর রহমান জানান, বাঘটি কেন্দ্রে প্রবেশের পর আবার বনের দিকে চলে যায়। তারপরও সেটি পুরোপুরি ফিরে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বনকর্মীরা পটকা ফোটানো ও হুইসেল বাজানোসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেন।
পরে বাঘের প্রবেশ ও বের হওয়ার স্থানের পায়ের ছাপ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, বাঘটি আবার সুন্দরবনে ফিরে গেছে।
দুই মাস আগেও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকেছিল বাঘ
আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে এবারের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন এর আগে মাত্র দুই মাস আগে সুন্দরবনের আরেকটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
গত ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের আঙ্গিনায় একটি বাঘ এসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিল।
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ার ইঙ্গিত
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী মনে করছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এখন সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও পর্যটকেরা প্রায়ই প্রকাশ্যে বাঘের চলাচল দেখতে পাচ্ছেন। এমনকি খালেও বাঘকে সাঁতার কাটতে দেখা যাচ্ছে।
রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, অতি সম্প্রতি তিনিও মরাপশুর বনাঞ্চলে একটি বাঘকে হেঁটে যেতে দেখেছেন। শুধু তা-ই নয়, গাছের গায়েও বাঘের পায়ের আঁচড় কাটতে দেখেছেন তিনি।