
দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
শুক্রবার সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দালালদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে র্যাব, ডিজিএফআই ও এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দল কাজ করছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সেবার মান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন তিনি। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পেয়েছেন।
এ ছাড়া অবৈধ ক্লিনিক, অনুমোদনহীন লেবার রুম ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তথ্যের ঘাটতি ও বয়সজনিত কারণে কিছু শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের টিকাদানের আওতায় আনতে ‘মপ-আপ’ ক্যাম্পেইন চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় এ কার্যক্রমের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্রেনেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
নতুন ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত জনবল নিয়োগ শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। চিকিৎসক ও রোগী একে অপরের প্রতিপক্ষ নন উল্লেখ করে উভয়ের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সিলেটে পৃথক একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তিনটি বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং অসম্পূর্ণ ৪৫০ শয্যার ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করা।
প্রকল্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের শুরুতে দুই মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।