
বর্তমান রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তাঁর মতে, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোয় ক্ষমতায় যিনিই আসুন না কেন, কয়েক বছর পর তিনিই স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মামুনুল হক। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‘ক্ষমতায় গেলেই ৫-১০ বছর পর হাসিনায় পরিণত হবেন’
মামুনুল হক বলেন, ‘বর্তমানে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, তার মধ্য দিয়ে লঙ্কায় গেলেই হনুমান হবে। যিনিই ক্ষমতায় যাবেন, ৫-১০ বছর পর তিনিই হাসিনায় পরিণত হবেন।’
শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান ৭২-এর সংবিধান সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত করে দিয়েছে। এ ব্যবস্থার বদল না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো সম্ভব নয়।’
রাষ্ট্রপতির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা দেওয়ার দাবি
ভারসাম্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে জুলাই সনদের প্রস্তাবনার কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাষ্ট্রপতি পদটি কেবল আলংকারিক বা “ঠুঁটো জগন্নাথ” হিসেবে রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে বাস্তবসম্মত কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থেকে বিচার বিভাগকে বের করে আনতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে, যাতে কোনো দলীয় বিচারপতি জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।’
‘দলীয়করণমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন চাই’
মামুনুল হক বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পুলিশ ‘দলীয় ক্যাডারে’ পরিণত হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল’সহ কোনো ধরনের দলীয়করণ দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে মেধার ভিত্তিতে প্রশাসনে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
‘ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না’
নতুন সরকারের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
মামুনুল হক বলেন, ‘নতুন সরকারকেও আগের স্বৈরাচারী কাঠামোর পুনরাবৃত্তি থেকে দূরে থাকতে হবে, তা না হলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ফজলুল হক শাহের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মুফতি ইসরাফিল আলম।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী এবং রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জোবায়ের হোসাইনসহ স্থানীয় নেতারা।