
ঢাকার ধামরাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আসামিদের হুমকির মুখে আবুল হোসেন মোল্লা (৭২) নামে এক বৃদ্ধ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বাড্ডা কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আবুল হোসেন মোল্লা সাভার পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। জমি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই মাস আগে ছুরিকাঘাতে তাঁর এক ভাতিজা নিহত হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামিদের একজনের প্রচার করা হত্যার হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও দেখেন আবুল হোসেন মোল্লা। ভিডিওটি দেখার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, মামলার আসামিদের দেওয়া হুমকির কারণেই আবুল হোসেন মোল্লার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
দুই মাস আগে ছুরিকাঘাতে ভাতিজা নিহত
এর আগে গত ২৬ জুন ধামরাইয়ের রূপনগর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল হোসেন মোল্লার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৫) ও মনির হোসেন মোল্লা (৫০) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত হন। তাঁদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে আরেক ভাতিজা খোকন মোল্লা এবং খোকনের দুই ছেলে আব্দুল আল ফাহাদ মোল্লা ও খালেদ মাহমুদ ইফাদ মোল্লার বিরুদ্ধে।
হামলার নয় দিন পর, ১০ জুলাই ঢাকার হেলথ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেন মোল্লা মারা যান।
এখনো গ্রেপ্তার হননি হত্যা মামলার আসামিরা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় মনির হোসেন মোল্লার স্ত্রী রেহানা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন ধামরাই থানায় মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এতে খোকন মোল্লা, তাঁর দুই ছেলে আব্দুল আল ফাহাদ মোল্লা ও খালেদ মাহমুদ ইফাদ মোল্লাকে আসামি করা হয়।
তবে ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
রেহানা বেগমের অভিযোগ, আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে, তাঁর চাচাশ্বশুর আবুল হোসেন মোল্লা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে, তাঁর চাচাশ্বশুর আবুল হোসেন মোল্লাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বুধবার আসামি খোকন মোল্লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি ভিডিও প্রচার করেন। ভিডিওটি দেখার পরই আমার চাচাশ্বশুর (আবুল হোসেন) অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’
পুলিশের বক্তব্য কী
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত আলী বলেন, ‘আসামিদের হুমকির কারণে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আবুল হোসেন মোল্লা মারা গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমার পক্ষে আইনগত সহায়তা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’