
ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দলটির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার আতাতুর্ক সরকারি হাই স্কুলের মিজান মিলনায়তনের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের গ্রুপ এবং কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পালটাধাওয়া। এতে দুই পক্ষের ৮/১০ জন আহত হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন গ্রুপের কর্মসূচি চলার সময় স্কুল অডিটোরিয়ামের বাইরে থেকে ফটিক গ্রুপের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আকবর গ্রুপের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিস্থল থেকে বের হয়ে এলে ফটিক গ্রুপের পক্ষ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তখন আকবর গ্রুপও প্রতিরোধে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনায় বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশও আপ্রাণ চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, জেলা সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, উপজেলা আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন আকবরকে পুলিশ স্কুল অডিটোরিয়ামের ভেতরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে যায়। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী শাহিন আকবরকে পুলিশ সিএনজিযোগে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই দল থেকে বহিষ্কৃত জামশেদুর রহমান ফটিক দলবল নিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জেলা নেতারা এ ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন।
অপরদিকে কাজী ফটিক বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পৌর কমিটির নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ না জানানোয় সংক্ষুব্ধ হয়ে স্লোগান দেওয়া হলে আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল করিম নোমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।