
মন্ত্রী হওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো নিজের নির্বাচনি এলাকা ভোলায় গেলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরোধীদেরও সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়
আগামীর ভোলার উন্নয়ন ও স্বপ্নপূরণের কথা শুনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পথে নেমে আসেন। তাদের মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের বাইরের মানুষও ছিলেন।
পথসভায় মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সময় বিরোধী দলকেও সম্পৃক্ত করা হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। ভোলার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পার্থ বলেন, ‘আর কোনো কাটাকাটি মারামারি হবে না। আর কোনো চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি হবে না। জিআর, টিআর, কাবিখা সব কাজের দায়িত্বে থাকবে জনগণ। আপনারা খুঁজে খুঁজে দেখবেন, যে সঠিকভাবে কাজ করবে না, সে আমার লোক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে আমাকে ভোট দেননি, এখন আপনি সহযোগিতা করলে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব।’
গত ছয় মাসে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি উল্লেখ করে পার্থ বলেন, ‘গত ৬ মাসে আমার নামে কোনো অভিযোগ কেউ আনতে পারেননি। আমি আপনাদের (জনগণকে) কথা দিচ্ছি, চোর-সন্ত্রাসী আমার দলের না।’
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ
বক্তব্যের শুরুতেই দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। এ পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। ভিত ভেঙে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখান থেকে আমাদের উঠে আসতে হচ্ছে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে সরকারের ভাবনা
ভোলা-বরিশাল সেতুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পার্থ। তিনি বলেন, এই সেতু নির্মাণের দাবিতে জেলার প্রত্যেক মানুষ আন্দোলন করেছেন এবং এ বিষয়ে তারা সবাই কাজ করে গেছেন। বিষয়টি সরকারও দেখছে বলে জানান তিনি।
বিকল্প হিসেবে হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ ও শরীয়তপুর হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, এই পথে গেলে ঢাকায় যেতে ৪০ মিনিট সময় কমে যাবে। সরকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে বলে জানান তিনি।
ভোলায় মেডিকেল কলেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
নিজের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভোলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, ভোলায় মেডিকেল কলেজ হবে।
এ ছাড়া নদীভাঙন ঠেকানো, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
পার্থ বলেন, ‘সরকার কাজ করছে। আমরা সরকারের সঙ্গে আছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেটি ভালো হবে তাই করা হবে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়
দুই দিনের সফরে ভোলায় গিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন মন্ত্রী। পাশাপাশি নিজ গ্রামে গিয়ে পিতার কবর জিয়ারত করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
মন্ত্রী হওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম নির্বাচনি এলাকা ভোলা সফর।
যাঁরা শুভেচ্ছা জানালেন
ভোলায় প্রবেশের সময় আন্দালিভ রহমান পার্থকে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউর রহমান কিরণ, সাবেক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) জেলা কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এবং মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।