
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে জিলা স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভের কারণে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। এ সময় অনেককে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে দেখা যায়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে রোববার ভোরে একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই যুবক বলেছেন, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের বাকি তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয়।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য মেনে নিতে পারছেন না আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য, এত অল্প সময়ে তদন্তের একটি পর্যায়ে পৌঁছানোর বিষয়টি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না এবং এতে আরও কেউ জড়িত কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থনা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে একই ঘটনায় মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সোমবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে দুপুরে মহিলা পরিষদের জেলা শাখার উদ্যোগে কাচারি বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।