
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ফোন না ধরা, ক্যামেরার সামনে কথা না বলা, অহরহ অপমান করা এবং অসহযোগিতাসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সভায় যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম জানান, গত বুধবার কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জেল পলাতক হত্যা মামলার আসামির দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কথা বলতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ডিসির কক্ষে গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ক্যামেরার সামনে কথা না বলে উল্টো ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা করেন এবং যমুনা টিভিতে চাকরি কীভাবে করেন তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া ডিসির কক্ষে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার ক্যামেরা পার্সন ইয়ারুল ইসলামের ভিডিও ধারণ চেক করতে বাধ্য করেন।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাভিশন-বাসস প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান জানান, গত ২৯ জুলাই শহরের দুটি ক্লিনিকে এনডিসি তাজুল ইসলামের পরিচালিত অভিযানের তথ্য চাইতে ফোন করলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের চেহারা দেখতে অফিসে আসতে বলেন। এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসাইন জানান, নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে ফোন দেওয়ার পর সাংবাদিক পরিচয় শুনেই জেলা প্রশাসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া তাঁর কাজ নয় বলে ফোন রেখে দেন। মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ জেলার অন্যান্য সাংবাদিকরাও একইভাবে তাঁর খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, অতীতের কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাংবাদিকরা এমন অসহযোগিতা পাননি। ডিসি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের সুশাসন ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারের বাইরে গিয়ে তাঁর এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য বা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহার সামগ্রী বিতরণের সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রাজনৈতিক নেতাদের না ডাকার ঘটনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ এবং জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন বলে সভায় জানানো হয়। সাতক্ষীরা বিএনপির আহবায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ জানান, মঞ্চে কাউকে না ডাকায় তারা জেলা পরিষদ প্রশাসকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে এসেছিলেন।