
এলএনজি সংকটের প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সংকট শুরুর আগে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। তবে জেলার চাহিদা এর প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যেই দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল।
সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও সংকটের সময়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। কয়েকদিন সীমিত সরবরাহের পর গত বুধবার থেকে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
গ্যাস না পেয়ে অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে। যেসব অটোরিকশা এলপিজিতে চলছে, সেগুলোর ভাড়াও বেড়ে গেছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর অটোরিকশা পান যাত্রী মো. মেহেদী। নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা হলেও তার কাছে ৮০ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির পর ৭০ টাকায় যেতে রাজি হন চালক।
অন্যদিকে, অটোরিকশাচালক জনি মিয়া জানান, তিনি কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে গাড়ি চালান। এই পথে স্বাভাবিক ভাড়া ৫০ টাকা। গ্যাস সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে গিয়ে ভাড়া ৯০ টাকা নিতে হচ্ছে।
ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার থেকে তাদের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনে গ্যাস দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার অথবা সোমবার সরবরাহ চালু করতে পারে বলে তাদের জানানো হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট কবে নাগাদ কেটে যাবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে তিনি জানান।