
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একটি মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সংলগ্ন চায়না রোডের বৈরাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীন (৩১) বাঁশখালী উপজেলার উত্তর সরল এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় দারুচ্ছুন্নাহ খাইরিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময় শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদরাসার ওয়াশরুমে নিয়ে যৌন নির্যাতন করতেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর অন্য শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে এতিমখানার হেফজ বিভাগের দ্বিতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে আবারও যৌন নির্যাতন করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে জানায় যে সে আর মাদরাসায় যেতে চায় না। পরে সে মায়ের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গত ২৯ জুলাই বাঁশখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই রমিজ উদ্দীন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আনোয়ারা এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য অভিযুক্তকে বাঁশখালী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।