
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে কৌশলে তাঁর স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে বেঁধে রাখেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্বামীর সামনেই হযরত আলী খন্দকার ও রাব্বি বেপারী তাঁকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া এলাকা থেকে হযরত আলী খন্দকার ও ইমন খন্দকার এবং নড়িয়া উপজেলার আচুড়া এলাকা থেকে রাব্বি বেপারীকে আটক করে পুলিশ।
নড়িয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য রয়েছে। তবে সেসব অভিযোগ এবং বর্তমান ঘটনাটি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে অভিযুক্তদের মাদকসংক্রান্ত বিরোধ বা লেনদেনের জের থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।