
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিচারিক কার্যক্রম শুরুর মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর এ মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার একমাত্র আসামি বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। এর আগে টানা কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন।
নিহত জান্নাতুল নেছা ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় অটোরিকশাচালক। ইরা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত ৩ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হলেও ইরাদের বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইরার বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান বাবু শেখ। গত ১ মার্চ সকালে চকোলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা পাহাড়সংলগ্ন বন থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইরাকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ শিশুটিকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২১ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে এখন আদালত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।