
জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনায় সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের শুক্রবার (৪ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তারা যথাক্রমে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীন মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩০ জুন বিকেলে ব্যক্তিগত কাজে বাসার বাইরে যান আহমাদুল কবির সাকিল। রাতে ফিরে তিনি মূল দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, হীরার আংটিসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মূল্যমানের মালামাল নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসায় কর্মরত গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা, সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম, শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন, গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব।
পুলিশ জানিয়েছে, সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সংগঠনটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, বর্তমানে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে তাদের মধ্যে দুজন আগের কমিটির দায়িত্বে ছিলেন।
জামালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির পরিকল্পনার নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত করতে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।