
লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন অতিথিরা। অল্প সময়ের মধ্যেই বর-কনের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রাঙ্গণে। সবার নজর ছিল মঞ্চের দিকে, যেখানে একে একে বসেন সাতজন বর ও সাতজন কনে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে।
বিয়ের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গান। লোকসংগীত, করতালি এবং শুভকামনায় মুখর পরিবেশে শেষ হয় সাত জোড়া নবদম্পতির যৌতুকবিহীন বিবাহ অনুষ্ঠান।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে এই ব্যতিক্রমী গণবিয়ের আয়োজন করে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাত জোড়া তরুণ-তরুণীর বিয়ের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে আয়োজক কমিটি।
যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন বর আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, যৌতুকবিহীন বিয়ে সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সংসার গড়ে উঠবে।
কনে তামান্না খাতুন বলেন, তার পরিবারের বিয়ের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। এমন আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে হবে, তা তিনি আগে কল্পনাও করেননি।
অন্য নবদম্পতি সমর চন্দ্র রায় ও বীথি রানী রায়ও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, যৌতুকের বোঝা অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়। সেই চাপ ছাড়া নতুন জীবন শুরু করার অনুভূতি ভিন্নরকম।
বীথি রানী রায়ের বাবা দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, মেয়ের বিয়ে নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আয়োজকদের সহযোগিতায় সেই উদ্বেগ দূর হয়েছে। সমাজে এমন উদ্যোগ আরও বাড়লে অনেক পরিবার উপকৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, যৌতুক একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যার কারণে বহু নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সংকটের শিকার হন। এই কুপ্রথা দূর করতে সমাজের সব স্তরের মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু সাতটি বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক বার্তা। ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পরিবারই একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন, লালমনিরহাট থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়বে।