
ভোলার মনপুরায় বিএনপির একটি কার্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যে জুয়া খেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার।
গত কয়েকদিন ধরে ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, দলীয় ব্যানার ও ফেস্টুন জড়ানো একটি কক্ষে দুটি আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। এর মধ্যে একদল চেয়ার-টেবিলে এবং অন্য দলটি মেঝেতে গোল হয়ে বসে তাস খেলছে। খেলা চলাকালীন জুয়ার টাকা তোলা ও লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডাও চলতে দেখা যায়।
এমপি নয়নের নির্দেশ এবং পুলিশের অ্যাকশন
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। বিএনপির একাধিক দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন মনপুরা থানা পুলিশকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। এমপির নির্দেশনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিতর্কিত ওই কার্যালয়টি বন্ধ ও সিলগালা করে দেয়। মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নেপথ্যে শ্রমিকদল নেতা ‘শামসু’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আনন্দবাজার সংলগ্ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন (যিনি এলাকায় ‘কোবা শামসু’ নামে পরিচিত) ওই দোকানঘরটি মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের রাজনৈতিক অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দলীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ওই শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বেই গত ঈদুল আজহা থেকে সেখানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে আসছিল। তবে পুলিশি অভিযানের পর থেকে অভিযুক্ত শামসুদ্দিন বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
'এটি অফিস নয়, ক্লাব'—দলীয় নেতাদের দাবি
এদিকে কার্যালয়টিতে বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা একে দলীয় কার্যালয় হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি মূলত একটি ব্যক্তিগত ক্লাব।
এই বিষয়ে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, "এটি বিএনপির অফিস নয়, এটি শামসুদ্দিন নিজে ভাড়া নিয়ে ক্লাব করেছে। পরে এমপি সাহেবের হস্তক্ষেপে পুলিশ ক্লাবটি বন্ধ করে দেয়।"
পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে। মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, "এমপি সাহেবের নির্দেশে পুলিশ গিয়ে ক্লাবটি বন্ধ করে দেয়। তবে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাসহ গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। এছাড়া মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ।"