
মেয়েরা ঘরের বাইরে বের হলেই মায়েরা ফোন দিয়ে জানতে চান, সব ঠিক আছে তো, কখন বাড়ি ফিরবি। বর্তমান সামাজিক নানা অঘটন আর নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা এত বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন যে ফোন করে এভাবেই তারা জানতে চান। যেটা হয়তো তাদের সময়ে অভিভাবকদের এভাবে ভাবতে হতো না।
পরিবার ও সমাজে নারীদের মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিতকরণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় এমন মন্তব্য করেন পাবনা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সাবারা সিথী।
তিনি বলেন, ‘এখন রাস্তায় বের হলেই ছোট-বড় না দেখে নানা ধরনের টিটকারি শুনতে হয়। ভয়ে ভয়ে পথ চলতে হয়, কখন কী হয়। বর্তমান সময়ে নারীদের সঙ্গে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে, তাতে সবাই যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি নারীরা রয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। আর এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে সবার আগে। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে। তবেই হয়তো নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আশরাফ আলী এবং ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মারুফ পারভেজ।
অন্যদের মধ্যে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রুমি খন্দকার, আঁখিনুর ইসলাম রেমন, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান উৎপল মির্জা, দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তার সম্পাদক শহীদুর রহমান, আহেদ আলী বিশ্বাস ট্রাস্টের প্রতিনিধি শবনম মঞ্জিলা খানম মিতা, পাবনা মহিলা দলের নেত্রী শামসুরনাহারসহ বিভিন্ন নারী উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের আলোচনা ও করণীয় বিষয়ক মন্তব্য শেষে ৬টি গ্রুপে ভাগ হয়ে কর্মশালার দীর্ঘ আলোচনার মূল প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবার ও সমাজে নারীদের মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থানে বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। একই সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পারিবারিক অধিকার সংরক্ষণে কাজ করতে হবে সবাইকে। শিক্ষার পাশাপাশি নারীদের আইনগত অধিকার নিয়েও কাজ করতে হবে।