
প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় খেয়ালে রীতিমতো তোলপাড় চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া একটি বিশাল গাছের ডালপালা ও ওপরের অংশ কাটার পর, সেটি অলৌকিকভাবে আবার আগের জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ একে 'অলৌকিক মহিমা' বললেও, এর পেছনে সাধারণ বৈজ্ঞানিক ভারসাম্য কাজ করেছে বলে মনে করছেন অন্য অনেকে।
আখাউড়ার স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে এক প্রচণ্ড ঝড়ে মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ির পুকুরপাড়ে থাকা বড় আকারের একটি গাছ শিকড়সহ উপড়ে মাটিতে পড়ে যায়। দীর্ঘদিন ওভাবেই পড়ে থাকার পর সম্প্রতি গাছটি বিক্রি করা হলে কাঠুরিয়া এসে সেটির ডালপালা এবং ওপরের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করতে শুরু করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাঠের গুড়ি ও ডালপালা কাটার কাজ চলাকালীন সময়েই হঠাৎ কোনো এক মুহূর্তে গাছটির ভারী অবশিষ্ট গোড়ার অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগের জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডালপালাবিহীন প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার গাছের ওই অংশটি সামান্য সামনের দিকে হেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছটির গোড়া এবং উপড়ে যাওয়া শিকড়ের একটি বড় অংশ এখনও মাটি থেকে দৃশ্যমান। আর কেটে ফেলা ডালপালাগুলো পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অতিউৎসাহী কিছু মানুষ গাছটিতে লাল কাপড় বেঁধে চারপাশ নিশানা দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন।
উপজেলার বচিয়ারা গ্রামের এই অদ্ভুত গাছটিকে ঘিরে এখন রীতিমতো মেলা বসেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ কৌতূহল নিয়ে এটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
অলৌকিকত্বের দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার মুন্সী বলেন, "প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে গিয়েছিল। পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটি আল্লাহর কুদরত ছাড়া অন্য কিছু নয়।"
একই সুর টেনে গাছের মূল মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, "কীভাবে এমন হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। প্রতিদিন বহু মানুষ গাছটি দেখতে আসছেন। কেউ মানত করছেন, কেউ শিকড় নিয়ে যাচ্ছেন।"
তবে কোনো অলৌকিকতা বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়কে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "গাছটি ঝড়ে শিকড়সহ উল্টে পড়েছিল। ডালপালা কাটার পর ভারসাম্যের কারণে আবার দাঁড়িয়ে যায়। গোড়ার কয়েক ইঞ্চি অংশ কেটে দিলে পড়ে যাবে। এখানে জিন-ভূতের কিছু নেই। তবে মানুষ কৌতূহলবশত ভিড় করছে।"
গাছটি পুনরায় দাঁড়িয়ে যাওয়ার পেছনে লিভার নীতি বা ওজনের ভারসাম্য পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কাজ করলেও, এখনো কোনো বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। আর এই সুযোগেই স্থানীয়দের বিশ্বাস ও কৌতূহলের এক প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই ন্যাড়া গাছটি।