
ভোরের আলো ফুটতেই এক নিমেষে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী বাজারের একটি বড় অংশ। আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকালের দিকে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে উপজেলা সদরের প্রধান বাজারের অন্তত ৯৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকান থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই লেলিহান শিখা পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের দুটি এবং ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি দল একসঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নেভানোর আগেই পুরো মার্কেটের চিত্র বদলে যায়। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ক্ষুদ্র কাপড়ের ৮০টি দোকান। এ ছাড়া পাশের জাকের পার্টির কার্যালয়সহ ১৫টি ফলের দোকান, জুতা, কসমেটিকস ও বইয়ের দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
হঠাৎ সবকিছু হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া তাঁদের দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, "এখানে যারা ব্যবসায়ী তারা প্রায় সকলেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এখন এরা নিঃস্ব হয়ে গেলো।"
হতদরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ীদের বেঁচে থাকার স্বার্থে দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে জোর আর্থিক সহায়তার দাবি জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, "খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনা স্থলে পৌঁছি এবং প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।"
এদিকে খবর পেয়েই দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, "৯৫টি দোকান পুড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বসানের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"