
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী। এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য 'অসম' এবং 'ক্ষতিকর' দাবি করে এটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।
রিট আবেদনের প্রেক্ষাপট
সোমবার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মঈদুল ইসলাম পলক জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন। আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস। এই আইনি লড়াইয়ে বিবাদী করা হয়েছে সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরকে— পররাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব এবং বাণিজ্য সচিব।
যে সব কারণে আপত্তি
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত এই রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টটি কাঠামোগতভাবে বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর। রিটকারীর মতে, এই চুক্তিটি করার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়নি এবং এতে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে:
চুক্তিটি সংবিধানের নির্ধারিত সঠিক প্রক্রিয়া বা নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পাদন করা হয়নি।
এটি কার্যকর হলে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে।
প্রস্তাবিত শুল্ককাঠামো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অসম ও অবাস্তব।
দেশীয় শিল্প ও কৃষিতে ঝুঁকির আশঙ্কা
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় শিল্প, কৃষি খাত এবং পরিবেশ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হতে পারে। জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই চুক্তিটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে আবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।
এখন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যা নির্ধারণ করবে বিতর্কিত এই বাণিজ্যিক চুক্তির ভবিষ্যৎ।