
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক উপস্থিত থাকলেও প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতির অভাবে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে তাদের প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরের খুলনা শহরে যেতে হচ্ছে, ফলে সময়মতো চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালে একটি আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থাকলেও সেটি চালানোর মতো প্রশিক্ষিত অপারেটর নেই। এ কারণে সপ্তাহে মাত্র একদিন একজন চিকিৎসক মেশিনটি ব্যবহার করেন। এছাড়া এখানে এক্স-রে, জেনারেটর, এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের কোনো সুবিধা নেই। ফলে চিকিৎসকদের অনেক ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে রোগ নির্ণয় করতে হচ্ছে।
অপরদিকে, হাসপাতালে চারজন চিকিৎসকের বসার ব্যবস্থা থাকলেও বাকি আটজন জায়গার অভাবে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
সুখদাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিহির মণ্ডল (৩০) জানান, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ নিয়ে তিনদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে পারছেন না। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে খুলনা শহরে গিয়ে পরীক্ষা করানোও সম্ভব হচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করছেন। তার মতো আরও অনেক রোগী একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওহিদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসক ও সেবিকার সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ অপারেটরের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী আসায় জটিল রোগীদের ঝুঁকি এড়াতে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম রয়েছে।