
পাবনা শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদীর খননকাজ হঠাৎ করেই থমকে গেছে—প্রধান কারণ জ্বালানির তীব্র সংকট। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খননযন্ত্রগুলো অচল পড়ে রয়েছে, ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে নদীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, খননকাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরসহ অন্যান্য যান্ত্রিক সরঞ্জাম স্থির অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিক ও চালকেরা কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন। খননকাজে যুক্ত সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আহাদ বিল্ডার্স’সহ সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজারে জ্বালানির তীব্র ঘাটতির কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আঁটুয়া হাউজপাড়া এলাকায় দায়িত্বে থাকা এক্সক্যাভেটর চালক জনি বলেন, “গত এক সপ্তাহের বেশি একটুও ডিজেল পাই নাই। মেশিন চালানো তো দূরের কথা, সারাদিন বসে বসে সময় কাটছে। এভাবে বসে থাকলে কাজ আগাবে কেমনে?”
এদিকে কাজের এমন ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাবনা শহরের বাসিন্দা আলফাজ মিয়া বলেন, “বারবার এই খননকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম চলে আসছে, অথচ কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে জনগণের এই বিপুল অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরি ও যন্ত্রপাতির ভাড়া বহনের চাপও বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বর্ষায় নতুন করে খনন করা অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে সাময়িক বলেই দাবি করছে। ‘ইছামতী নদী পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিতকরণ’ প্রকল্পের পরিচালক সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে আমরা বসে নেই। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামও জানান, তেলের সংকটের বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদী পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ইছামতী নদীর ৩৩ দশমিক ৭৭২ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে এবং অন্যান্য নদী ও লিংক চ্যানেলসহ মোট খননকাজের পরিমাণ দাঁড়াবে ১১০ দশমিক ২১৬ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।