
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজার প্রাঙ্গণের দিঘীতে কুমিরের একটি কুকুর খাওয়ার ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে অনেকেই দাবি করছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, এমনকি কেউ কেউ কুকুরটির পা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন। তবে মাজার কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়াতে গেলে সেটি দৌড়ে ঘাটের দিকে চলে যায়।
এ সময় মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদারকে আঁচড় দেয় কুকুরটি। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দিঘীতে পড়ে যায়। পরে সেখানে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। ঘটনাটির এই অংশটুকুই ভিডিওতে ধারণ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং আগে থেকেই কয়েকজনকে কামড়ানোর পাশাপাশি কিছু গৃহপালিত প্রাণীকেও আক্রমণ করেছিল। ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে তাড়িয়ে দেয়।
মাজারের একাধিক সূত্র জানায়, দিঘীতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে অবমুক্ত করা হয়। আগের কুমিরগুলো বিলুপ্তির পথে গেলে নতুন করে এটি আনা হয়েছিল।
এ বিষয়ে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়দের অনেকে সতর্ক করে বলেন, কুমিরটি বন্য প্রাণী হওয়ায় যেকোনো সময় আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। তাই দিঘীর আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।