
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফুলদী নদীতে ভেসে আসা ১৯ বছর বয়সী তরুণী হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পচন ধরায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের ক্রাইম সিন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহত তরুণী হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহসিন বেপারীর মেয়ে হালিমা আক্তার।
রোববার সন্ধ্যায় পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন আবু কালাম, জামাল হোসেন, রাসেল মিয়া এবং আল আমিন প্রধান। তারা সবাই গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।
পিবিআই জানায়, ভিকটিম হালিমার কাছে আবু কালামের ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। পাশাপাশি জামালের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব কারণেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বসেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে ২৬ মে সন্ধ্যায় টাকা ফেরতের কথা বলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নৌকায় করে নদীর ওপারে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর তার পরনের সালোয়ার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
নৌ-পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের পর হালিমার বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুতই পুরো ঘটনার চিত্র সামনে আসে। আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।