
সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই—ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, যা সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে বড় বোঝা।
জেলায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়লেও বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন বড় কোম্পানি ও ডিলারদের একটি চক্রের ওপর।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজির দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে। এর আগে মার্চ মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে বাস্তবে জেলার কোথাও এই নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দাম বেড়ে প্রায় ২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, গত মাসেও তিনি যে সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার নিচে কিনেছেন, এখন সেটি কিনতে প্রায় ২ হাজার টাকা লাগছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জয়নাল আবেদীন। আট সদস্যের পরিবারে মাসে দুটি সিলিন্ডার লাগায় তাঁর অতিরিক্ত খরচ এখন তিন হাজার টাকারও বেশি।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী নন। উত্তর পৈরতলার মেসার্স জহির এন্টারপ্রাইজের মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, কোম্পানিগুলো নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না। তিনি জানান, কোম্পানি থেকে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় সিলিন্ডার কিনে তার সঙ্গে পরিবহন খরচ ও দোকান ভাড়া যোগ করলে সরকারি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। অন্য ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।
এলপিজি পরিবেশক সমিতির তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। ফলে পরিবেশকদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে না পারায় তারা প্রশাসনিক জরিমানা ও হয়রানির মুখে পড়ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলপিজি পরিবেশক সমিতির সভাপতি শেখ ফরিদ। গত বুধবার তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।