
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঢাকার ব্যস্ততা, যানজট আর কর্মব্যস্ত জীবন পেছনে ফেলে নাড়ির টানে নাড়ির দেশে ফেরার এই যাত্রায় আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ও ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে যাত্রীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ট্রেনের হুইসেল, শিশুদের কোলাহল আর স্বজনদের কাছে ফেরার অপেক্ষার আনন্দ—সব মিলিয়ে স্টেশনে যেন ঈদের আগাম উৎসব নেমে এসেছে। জীবনের ক্লান্তি ভুলে পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যাগ-লাগেজ কাঁধে ট্রেনে চড়ে ঢাকা ছাড়ছেন নানা পেশার নগরবাসী।
যাত্রীদের চোখেমুখে ঘরে ফেরার আনন্দ
জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী বেসরকারি চাকুরিজীবী মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, “চাকরির কারণে সারা বছর পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো সময় কাটানো হয় না। স্ত্রী-সন্তানদের আগেই বাড়ি পাঠিয়েছি। গতকাল অফিস শেষ করে আজ আমি রওনা হলাম। মা বারবার ফোন করে জানতে চাচ্ছেন কখন পৌঁছাব।”
একই ধরনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী, কলেজ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ঢাকায় জীবনটা খুব যান্ত্রিক। ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে গেলে অন্যরকম শান্তি লাগে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে খাওয়া, আত্মীয়দের সঙ্গে আড্ডা—এসবের জন্যই তো সারা বছর অপেক্ষা করি।”
অনলাইন টিকিটে স্বস্তি ও কিছু ভোগান্তি
রেজাউল করিম নামে এক যাত্রী জানান, যানজটের ভোগান্তি এড়াতে ট্রেনই প্রথম পছন্দ। তবে টিকিট সংগ্রহ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে যাত্রীদের মধ্যে। অনেকেই অনলাইনে সময়মতো টিকিট পেয়ে স্বস্তিতে যাত্রা করলেও, একটি অংশের কপালে জুটেছে ভোগান্তি।
অ্যাপ ও অনলাইনে টিকিট কাটতে না পেরে বাধ্য হয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট (স্ট্যান্ডিং টিকিট) সংগ্রহ করেছেন। কামরুজ্জামান বাবু নামের এক ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, “অ্যাপে ঢুকতে ঢুকতেই সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটেছি। কষ্ট হলেও বাড়ি যেতে পারছি, এটাই বড় কথা।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, রেলওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রবেশ রোধে এবং টিকিটধারী যাত্রীদের সুশৃঙ্খলভাবে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রের খবর, যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিডিউল বিপর্যয় এড়ানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।