
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একই সাথে তিনি নিজের দায়িত্বের চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৭ তারিখে শপথ নেওয়ার পর থেকে আমি ঘুমাতে পারি না, এমন একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মন্ত্রী বলেন, “আমি তেল ঠিকই দিতেছি, যে তেল দিলে একটি পেট্রোল পাম্পের বেচতে একদিন বা দেড় দিন লাগতো, সেই তেল এখন দিলে দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। কই যায়? কই যায়?”
তিনি আরও জানান, ১২ তারিখে নির্বাচনে জয়লাভ এবং ১৭ তারিখে শপথ গ্রহণের পর থেকেই দায়িত্বের চাপ বেড়েছে। “১২ তারিখে ইলেকশনে জেতার পরে এবং ১৭ তারিখে শপথ নেওয়ার পর থেকে আমি ঘুমাতে পারি না, এমন একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে পড়েছে। তারপরে ইরান যুদ্ধে আমার যে কাজ এতো বেড়ে গেছে, দিন যদি ২৪ ঘণ্টা না হয়ে ৪৮ ঘণ্টা হতো তাহলে আমার জন্য ভালো হতো।”
জ্বালানি খাতে অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেল চুরি ঠেকাতে পেট্রোল পাম্প ও ডিপো উভয় জায়গায় নজরদারি রাখতে হচ্ছে। “আমাকে পেট্রোল পাম্প পাহারা দেওয়া লাগে, আবার ডিপোও পাহারা দেওয়া লাগে, যাতে চুরি না হয়। তারপরও চুরি হচ্ছে। কারণ নৈতিক চরিত্র খারাপ হয়ে গেছে।”
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু-এর প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যে মাটির নিচ থেকে চুরি হওয়া তেল উদ্ধার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদেরও তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু। এছাড়া জেলার মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।