
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। টর্চলাইট জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে চালানো এই সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৮ মার্চ) রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত টানা প্রায় তিন ঘণ্টা মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুল কালাম আজাদ, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মাদারীপুর সদর মডেল থানা।
ঘটনার সময়কার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, খোলা মাঠে টর্চলাইটের আলোতে দুই পক্ষ একে অপরের দিকে বোমা নিক্ষেপ করছে। চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া চলছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। একটি ভিডিওতে পুলিশকে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আক্তার হাওলাদার এবং হাসান মুন্সির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বিরোধ চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আক্তার হাওলাদার ও তার অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের পুনরায় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এই বিরোধের জের ধরে রোববার রাতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষ অন্তত শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব পুরোনো। তারা বারবার রাতে একত্র হয়ে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। তবু তাদের থামানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রাতে দুই পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ আটটি শেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত মাসেও নতুন মাদারীপুর গ্রামে একাধিকবার টর্চলাইট জ্বালিয়ে একই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। প্রতিবারই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে হাতবোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায় তারা।