
ওমরাহ শেষে ফেরার পথেই থেমে গেছে একটি পরিবারের পুরো আকাশ। বেঁচে আছে শুধু ছোট্ট ফাইজা আক্তার—শরীরে এখনো তার জখমের দাগ, আর মনে অজানা অপেক্ষা। একাই বেঁচে ফিরল সে, কিন্তু সৌদিতে নিভে গেছে তার পুরো পরিবার।
সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে ফাইজা আক্তার (৮)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মামার সঙ্গে সৌদি আরব থেকে সে বাড়িতে পৌঁছায়। তার ছোট্ট শরীরে এখনো দুর্ঘটনার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, হাঁটাচলায় কষ্টের ছাপ। দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে কথাও বলছেন খুব কম।
ফাইজা আক্তার রামগঞ্জ টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা।
স্বজনরা জানিয়েছেন, বাবা, মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো তাকে জানানো হয়নি। সে জানে—দুর্ঘটনার পর তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মাঝে মাঝে সে মাকে খোঁজে, বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। উত্তর দিতে গিয়ে স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে, কিন্তু সত্যটা বলতে পারেন না কেউ।
সোমবার দুপুরে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফাইজা সরল বিশ্বাসে জানান, তার মতোই বাবা, মা ও বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে এবং শিগগিরই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এরপর সবাই মিলে ঈদ উদযাপন করবে। নতুন জামা পরে সে বাবার সঙ্গে ঈদের মেলায় যাবে। সঙ্গে থাকবে তার দুই বোন। ঈদের দিন তারা অনেক আনন্দ করবে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত তিনটার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের গাড়ি। এতে ফাইজার বাবা মিজানুর রহমান (৪২), মা মেহের আফরোজ সুমি (৩০), বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছরের শিশু সুবাহসহ পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
তার মামা তানভীর হোসেন জানান, ফাইজাকে নিয়ে গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটা সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পুরো যাত্রাপথ সে নিস্তব্ধ ছিল। শিশুটি এখনো জানে না তার পৃথিবী ভেঙে গেছে, সে হয়তো অপেক্ষা করছে—হাসপাতাল থেকে মা ফিরবে, বাবা ডাকবেন, বোনেরা পাশে বসবে। কিন্তু বাস্তবতা আরও নির্মম। তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দার হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।