
একযোগে ছয় সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকার দুটি সিটিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়। সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের এর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহাবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০
২৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নিয়োগকৃত প্রশাসকগণ ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এর ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিপি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন।’
নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেখানে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে তিনি পরাজিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঘাটতি, দলীয় সমন্বয়ের অভাব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিশ্বাসঘাতকতা বিএনপির এ ঘাঁটিতে পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল। চার দশকের বেশি সময় মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ও তুমুল জনপ্রিয় এই সাবেক সংসদ সদস্য অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় তার সমর্থকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছিল। তবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে তার নিয়োগের খবরে সেই সমর্থক মহলে এখন আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।