
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ঝিনাইদহ-৪ আসনে উত্তেজনা রূপ নেয় সহিংসতায়। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে একাধিক দফায় এ সংঘাত ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
আহতদের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—জোবায়ের, তৌহিদ আলম, জাবেদ রহমান, ইভন, খোকন, আমীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, ইমন রহমান ও রিয়াজ উদ্দিন। এদের মধ্যে আমীর হোসেন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির। খোকন ও ইভন সম্পর্কে বাবা-ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। নির্বাচনে এ আসনে জয় পান জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু তালিব। ফল ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে মহেশপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় জামায়াত নেতারা চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন; তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে কালিগঞ্জ ও মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ২৫ জনকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এবং একই পরিবারের বাবা-ছেলে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, “বিনা উস্কানিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।”
অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, “উনি (সাইফুল ইসলাম ফিরোজ) কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে হারাতে নির্বাচন করেছে। ফলাফল ঘোষণার পর উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে।”
কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, সহযোগিতা না করার অভিযোগ সঠিক নয়। নির্বাচনী দায়িত্বে চাপ থাকলেও খবর পাওয়ার পর ফোর্স পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তবে দলীয় মনোনয়ন পান রাশেদ খান। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।