
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান, ওরফে সাদ্দাম, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ চাওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারতের সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছে যে যদি বাগেরহাটে থাকতে হয়, পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি কারাগারে ঢোকার পর থেকে, আগের থেকে আমার বাগেরহাটের সংসদ সদস্য তন্ময় ভাই (বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়) আমার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। জেলে আমার পিসির টাকা, জামিনের টাকা, সম্পূর্ণ আমার ভাই।”
জুয়েল হাসানের অভিযোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জেল প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, “আচরণের কারণে তাকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলায় স্থানান্তর করতে পারেন না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তারা জানিয়েছে, জেলে থাকাকালীন জুয়েল সেল থেকে চলাচল সংরক্ষিত থাকলেও সেল কোনো শাস্তির জায়গা নয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছিলেন। শুক্রবার ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ এবং ঘরের মেঝে থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশু ও স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জুয়েল হাসানের পরিবার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিল। তবে স্বজনদের আবেদন বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছায়নি। পরে ডিসির বাংলো থেকে পরিবারকে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির অনুমোদন হয়নি। ফলে শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দাম তার মৃত স্ত্রী-সন্তানের লাশ নিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে শেষ বিদায় জানান। এই ঘটনায় প্যারোল প্রসেস নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।