
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের মন্তব্য করেছেন, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের নিয়োগকর্তা বৈষম্যবিরোধী নেতারা, যারা পরবর্তীতে এনসিপি গঠন করেছেন। তারা এখন সরকারি দলের অধীনে নির্বাচন পরিচালনা করছে। সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমূলক নির্বাচন করে রাষ্ট্র দখল করতে চায়।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোডে দলের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গলের প্রচারণা শুরু করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “নানা বাধা-বিপত্তির মুখে আমরা নির্বাচনে এসেছি। তারা আমাদের দলকে ভাগ করার চেষ্টা করেছে, নির্বাচন থেকে সরাতে চেয়েছে। আমরা তা রুখেছি। আমাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলে রাখছে, জামিন হচ্ছে না। নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে। তবুও আমরা আমাদের রাজনীতি চালাচ্ছি। দরকার হলে বুকের রক্ত দেব, তবুও আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়ব এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।”
জি এম কাদের উল্লেখ করেন, “আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না, যা ঠিক নয়। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে চাপ ও অত্যাচারের মুখে পড়ছে। তবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি চাইলে তাদের ভোট দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে ভোট দিলে তাদের তা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, আমাদের সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হোক।”
তিনি ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট বিষয়ে বলেন, “রংপুরে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, যারা ‘না’ ভোট চাচ্ছে, তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলছি, আমরা দেশ বাঁচাতে ‘না’ ভোটের পক্ষে। আর যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা নাৎসিবাদের দোসর।”
জি এম কাদের রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরে লাঙ্গলের প্রচারণা শুরু করেন এবং সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাইতে দেখা গেছে।