
তেল নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধ না করে পালানোর চেষ্টায় এক পেট্রল পাম্প কর্মচারীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ী ও সাবেক জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল হাশেম সুজন এবং তার গাড়িচালক কামালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রিপন সাহা (২৮) রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে অবস্থিত করিম ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ফিলিং স্টেশনেই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। রিপন সাহা খানখানাপুর ইউনিয়নের চর খানখানাপুর গ্রামের পবিত্র সাহার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবুল হাশেম সুজন রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুড়ারিপুর গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে। অপরদিকে চালক কামাল হোসেন সরদার বানীবহ নিচপাড়ার আক্তার সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় একটি কালো রঙের পাজেরো জিপ করিম ফিলিং স্টেশনে এসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার অকটেন নেয়। তেল নেওয়ার পর গাড়ির আরোহীরা কোনো টাকা পরিশোধ না করেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে।
এ সময় পাম্প কর্মচারী রিপন সাহা গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে তাদের থামাতে গেলে গাড়িটি তাকে সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পাম্প এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর বড় মুরারীপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আবুল হাশেম সুজন ও তার গাড়িচালক কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
নিহত রিপন সাহার বাবা পবিত্র সাহা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে শুধু তার পাওনা টাকাটা চাইছিল। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “তেলের টাকা পরিশোধ না করে পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত আবুল হাশেম সুজনের গাড়ি পাম্প কর্মচারী রিপন সাহাকে চাপা দিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ও তার গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।