
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৪২,৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালন করবেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সদস্য। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গত আগস্ট মাস থেকে এই প্রস্তুতি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫৬ হাজার উপজেলা-থানা কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারের বেশি আনসার ব্যাটালিয়নকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য সাড়ে চার লাখ সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে দেশব্যাপী ১,১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১,৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে, যা নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করবে।
তিনি নেতাদের সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচনে কোনো ধরনের অনৈতিক বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। দেশের ভবিষ্যতের কল্যাণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব সকলকে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।”
দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয় করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো আনসার সদস্য ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করলে সে শুধু আইন ভঙ্গ করে না, রাষ্ট্রকেও দুর্বল করে।”
তিনি আরও বলেন, “আনসার ও ভিডিপি কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, এটি দেশের সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের অর্থে বেতনপ্রাপ্ত সরকারি বাহিনী। কেউ যেন কোনো বেআইনি আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়। সাহস মানে বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, অন্যায় আদেশ প্রত্যাখ্যান করা, ন্যায়পরায়ণ দায়িত্ব পালন করা এবং সততা, নৈতিকতা ও বিবেকের সঙ্গে নিজের কাজ করা।”
অনুষ্ঠানে সেরা নৈপুণ্য ও পেশাদারিত্বের জন্য চারজন নবীন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।