
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় খলিশাকোটাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যে সড়ক নির্মাণ শুরু করেছিল, তা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে দুই পক্ষের দফায় দফায় পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ কাজ সাময়িক স্থগিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতীয় মেঘ নারায়ণের কুঠি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা পাকা সড়কের কাজ শুরু করলে স্থানীয়দের সঙ্গে বালারহাট বিজিবি ক্যাম্প সদস্যরা বাধা প্রদান করেন। এসময় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির পাশে দাঁড়ান।
এর আগে বিকাল ৩টার দিকে প্রথম দফা নির্মাণকাজ শুরু হলে বিজিবি বাধা দিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। পরে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ৯৩৪ নম্বর মেইন পিলারের পাশে প্রথম পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএসএফ রাস্তার কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বিজিবি টহল চলে গেলে বিকাল চারটার দিকে বিএসএফ আবারও কাজ শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে বিজিবি ও স্থানীয়দের উদ্যোগে দ্বিতীয় দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় বৈঠকটি সীমান্তের ৯৩৪ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব পিলারে ভারতীয় নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার আবু তাহের, আর ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়ণের কুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার। বৈঠকে আগামী ১৩ জানুয়ারি অধিনায়ক পর্যায়ে আরও পতাকা বৈঠক করার বিষয়ে একমত হয় এবং বিএসএফ রাস্তা নির্মাণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, খলিশাকোটাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর ১ নম্বর থেকে ১১ নম্বর সাব পিলার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা কোচবিহার জেলার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা সড়কের অন্তর্গত। আন্তর্জাতিক সীমানা আইন অনুযায়ী শূন্য লাইন থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। কিন্তু বিএসএফ এই নিয়ম অমান্য করে সড়ক নির্মাণ শুরু করে।
সীমান্তবাসী মজিবর রহমান ও উমর আলী মন্টুসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত তিন-চার দিন ধরে পুরাতন ১ কিলোমিটার সড়কের পাশে বিএসএফ নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ করছিল। রাতের আধারে কাজ চলায় উদ্বেগ রয়েছে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার ফলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করা সম্ভব হলেও রাতের সময় কাজ চালানোর সম্ভাবনা আছে।
বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু তাহের বলেন, “বৈঠকের সময় উভয় দেশের অধিনায়ক পর্যায়ে ফোনালাপ হয়েছে। ১৩ জানুয়ারির আগে বিএসএফ আর কাজ করবে না। ওই দিনের পতাকা বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”