
ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁচড়া ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন জিও ব্যাগের কাজের ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মি আহত হয়েছে। আহতদের ৩ জনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একপক্ষ তজুমদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আহত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগের কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফারিশা। ফারিশা কোম্পানি কাজটি বাস্তবায়নের জন্য লিখিত চুক্তি করেছেন লালমোহন উপজেলা ধলীগৌরনগরের বেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে।
বেলাল উদ্দিন ২০২৫ সালে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেন চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুদ্দিনকে। বর্ষা কাজ বন্ধ থাকায় ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসে পুনরায় কাজ শুরু করে নুরুদ্দিন। কাজ শুরু করার পর থেকে চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার জিও ব্যাগে বালু ভরার কাজের ভাগ চেয়ে ঝামেলা শুরু করেন।
কাজের ভাগ না দেয়ায় বুধবার রাতে মঙ্গল সিকদার বাজারে চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মি আহত হয়। আহতদের ৩ জনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন: মোঃ রিয়াজ উদ্দিন (৪০), মোঃ সালাউদ্দিন (৫০) ও মোঃ মিলন পাটওয়ারী (৪৫)।
এ ঘটনায় আহত মিলন পাটওয়ারী বাদি হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আহত মিলন পাটওয়ারী জানান, বস্তার কাজ চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুদ্দিন একাই বাস্তবায়ন করছে। সেখানে সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার কাজের ভাগ চায়, কিন্তু নুরুদ্দিন ভাগ না দেয়ায় দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়। যেহেতু আমি ইব্রাহিম হাওলাদারের সমর্থক, তাই নুরুদ্দিনের লোকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
জানতে চাইলে চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুদ্দিন বলেন, মঙ্গলসিকদারের ফেরদাউস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ইব্রাহিম হাওলাদারের লোকজনের সাথে মারামারি হয়। এ ঘটনায় আমার ইন্দন আছে বলে ইব্রাহিম হাওলাদারের লোকজন আমার লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার ভাই রিয়াজ উদ্দিন ও চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন নেতাকর্মি আহত হয়।
সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারের ব্যবহৃত নম্বরে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
জানতে চাইলে তজুমদ্দিন থানার ওসি তদন্ত সুশান্ত বলেন, মারামারির ঘটনায় একপক্ষ রাতেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। কোন পক্ষ আইনগত সহায়তা চাইলে আইনী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।