
চট্টগ্রাম নগরে খতনা করানোর সময় চিকিৎসকীয় অবহেলার কারণে মোস্তফা রোহান নামে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার অভিযোগে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশে কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমও (ডিসি) ডা. মো. নুরুল হায়দার।
সদস্য হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন মীরসরাই উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. মোহাম্মদ রাজিব হাসান, বোয়ালখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. নিগহাত জাবীন এবং হাটহাজারী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে শিশুটি চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সার্জারির জন্য ভর্তি করা হয়। একইদিন বেলা ৩:৩০ মিনিটে তাকে সার্জারি কক্ষে নেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বলেন।
মোস্তফার বাবা আবু মুসা অভিযোগ করেছেন, “অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণে শিশুটি মারা গেছে। বিছানায় শুয়ে রোহান হাসিখুশি ছিল। একসময় বলল, আব্বু, আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে কিছু খাওয়ানো হয়নি। অ্যানেস্থেসিয়ায় ত্রুটি না হলে খতনার মতো একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় মারা যাওয়া অসম্ভব।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, “কি ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় এবং এতে খুব কম ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয়।”