
মাগুরার মহম্মদপুরে বাড়ি ফেরার পথে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা দুজনই বিলুপ্ত বৈষব্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সদস্য ছিলেন।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযোগ দায়েরের পর রাতেই তাদের আটক করা হয় এবং আজ বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নাফিস আহমেদ স্বাধীন (২২) এবং সিজান মাহমুদ সানি (২১)। স্বাধীন মহম্মদপুর কারিগরি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের, আর সানি মহম্মদপুর আমিনুর রহমান কলেজের একই বর্ষের ছাত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বয়স ৩৮ বছর। তার স্বামী প্রবাসী এবং নারী ফরিদপুরের একটি পাটকলের কর্মী। প্রতিদিন মহম্মদপুর থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন।
ঘটনা ঘটে সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে। কর্মস্থল থেকে বাসে বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়া ওই নারী গোপালপুর গ্রামের আরব ব্রিকস মোড়ে নেমে যাওয়ার পর চার যুবক তাকে ওঁৎ পেতে ধরে নিয়ে যায়। পরে একটি মেহগনি বাগানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, সিজান মাহমুদ সানি, নাফিস আহমেদ স্বাধীন, রুবেল ও সুমন—এই চারজন ধর্ষণে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার পরিবারের সহায়তায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই সানি ও স্বাধীনকে আটক করা হয়। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামি এখনও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বৈষব্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসাইন বলেন, “গত বছরের এপ্রিল মাসে মহম্মদপুর উপজেলা শাখার কমিটি গঠিত হয়েছিল। পরে ওই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি কয়েক দিনের মধ্যে বিলুপ্ত করা হয়। আট মাস ধরে সেখানে কোনও কার্যকর উপজেলা কমিটি নেই। গ্রেপ্তার দুইজন আগে ওই কমিটিতে ছিলেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।”