
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা-এ প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে এসে এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পাঁচটিকরি গ্রাম-এ আসেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিদেশি যুবককে দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মায়াদের বাড়িতে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়ন-এর বাসিন্দা আব্দুল মালেকের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মায়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় এক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম WeChat-এ পরিচয় হয় চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের বাসিন্দা জংজিয়াং মামুসার। পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরই মধ্যে মায়ার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মামুসা বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘাটাইলে এসে পৌঁছান। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজীর মাধ্যমে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর থেকে মামুসা স্ত্রী মায়াকে নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় খাবার—মাছ, মাংস ও সবজি—সবই খাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে স্বামীর সঙ্গে চীনে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন মায়া।
মায়া জানান, উইচ্যাটে পরিচয়ের পর মামুসা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি মজা করে বলেছিলেন, বিয়ে করতে হলে বাংলাদেশে আসতে হবে। পরে সত্যিই মামুসা বাংলাদেশে চলে আসেন। শুরুতে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে বিমানবন্দর থেকে ফোনে কথা বলার পর তিনি নিশ্চিত হন।
মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, “মোবাইলের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক হয়েছে। প্রথমে আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু মেয়ে বলেছে, বিয়ে না দিলে সে চলে যাবে। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কাজী ডেকে তাদের বিয়ে দিয়েছি। এখন যদি সে মেয়েকে নিয়ে যেতে চায়, আমি বাধা দেব না।”
এদিকে পাসপোর্ট ও ভিসাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে মায়াকে নিয়ে চীনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন ওই চীনা যুবক।