
ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ার আনন্দে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যও হাততালিতে অংশ নেন। এই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
রোববার, ৪ জানুয়ারি, মিন্টুর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক মন্টুর মনোনয়ন গৃহীত হওয়ার ঘোষণা দেন। ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সাথে ওই পুলিশ কনস্টেবলও হাততালিতে অংশ নেন।
ভাইরাল হওয়া ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, “আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পূর্বে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করার তথ্য দাখিল করেছেন। সেক্ষেত্রে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় যেটি বলা আছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে এ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন বলে গণ্য হবেন না। সেই হিসেবে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
মন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার খবরে পুলিশ সদস্যও উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাততালিতে অংশ নেন। পরে তিনি ভুল বোঝাবুঝি উপলব্ধি করে জিভে কামড় দিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে কনস্টেবল সারওয়ার হোসেন বলেন, “মনের অজান্তে তালির ঘটনাটি ঘটেছে। ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে জিভে কামড় দিয়েছি। বিষয়টিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া দুঃখজনক।”
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইফ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আবু সুফিয়ান, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আবদুল মালেক এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী।
সরকারি পাওনা পরিশোধ না করায় ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী হাসান আহমদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। হলফনামায় সই না থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের সইয়ের ঘাটতি এবং তথ্যগত সমস্যার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদ এবং একই কারণে জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুল হক রিপনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।