
নির্বাচনী মাঠে এখনও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার ভাষায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার বা অস্ত্র উদ্ধারের খবর মিলছে না।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। তিনি দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাস দমনের নামে অভিযানের কথা শোনা গেলেও তার দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, সন্ত্রাসীরা যদি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই যায় এবং অস্ত্র উদ্ধার না হয়, তাহলে ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনি জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জোটের অংশীদারদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, দশজন একসঙ্গে চলতে গেলে মতভিন্নতা থাকাই স্বাভাবিক। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি সম্মানজনক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিন খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। দুটি আসনেই ছয়জন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে খুলনা-৫ আসনে চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়, একজনের বাতিল এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়। অন্যদিকে খুলনা-৬ আসনে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ, দুইজনের বাতিল এবং একজনের প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলার ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।