
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা মূল ফটক ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ির সামনে এসে প্রথমে টাকা দাবি করে এবং বাসিন্দাদের বের হয়ে যেতে বলে। তারা গেট খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে গেট না খোলায় চাপাতি ও রামদা দিয়ে মূল ফটকে কোপাতে শুরু করে।
বাড়িটির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। তার ভাতিজা মনির হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল।
শনিবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মনির হোসেন বলেন, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক বাড়িটির সামনে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে। পরে তাদের মধ্যে চারজন মূল ফটকের কাছে যায়। এ সময় দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। আর কিছুটা দূরে পিস্তল হাতে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার নির্দেশনাতেই হামলা চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করেন মনির।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে মূল ফটক খুলে দিতে বলে এবং বাড়ির সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। কেউ বের না হওয়ায় তারা বাইরে থেকে বলতে থাকে, ‘টাকা দে! বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।’ এরপর চাপাতি ও রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
মনির হোসেনের দাবি, হামলাকারীরা গেটের সামনে থাকা সিসি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে ইটের টুকরা ছুড়ে দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, ভাঙচুরের সময় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সময়মতো পুলিশ এলে হামলাকারীদের আটক করা সম্ভব হতো বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরে আদাবর থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের পর পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা তারা জানেন না বলে জানান মনির হোসেন।
বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আবার কখন কী হয়, বুঝতে পারছি না। এভাবে তো চলা যায় না। আমাদের সাহায্য করুন।’
এ বিষয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে জানান।
মনির হোসেনের দাবি, এর আগেও ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় আদাবর থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি। পরে আদালতে মামলা করেন তারা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। এরপর গত ১২ মার্চ তারা বাড়িটির দখল ফিরে পান। তবে প্রায় চার মাস তদন্তের পর পিবিআই যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, তাতে কী উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলেও অভিযোগ করেন মনির।