
বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে আজ। এ লক্ষ্যে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বৈঠকেই সচিব কমিটির প্রস্তুত করা সুপারিশমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। যদি আজ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হয়, তবে পরবর্তী বৈঠকে অনুমোদনের পর তা মন্ত্রিসভার কাছে পাঠানো হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো সমন্বয়ের কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি জুলাই মাস থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সব গ্রেডে একই হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তনেরও প্রস্তাব রয়েছে।
খসড়া সুপারিশে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে। পঞ্চম গ্রেডের জন্য ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সন্তানদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। কারণ, নতুন কাঠামোয় মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রাখা হয়েছে।
আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।