
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা যোগদানের আদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রার্থীরা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এতে শাহবাগ এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয় এবং আশপাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অবস্থান নেওয়ার পরপরই পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হলে আন্দোলনকারীরা তা মেনে নিয়ে ব্যারিকেডের মধ্যেই সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নিয়োগপ্রত্যাশীরা ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’, ‘তুমি কে, আমি কে, শিক্ষক শিক্ষক’সহ নানা স্লোগান দেন।
তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই চাকরির আশায় অন্যান্য সুযোগ হাতছাড়া করেছেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত যোগদানের আদেশ জারি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় এবং সব প্রক্রিয়া শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের কোনো নির্দেশনা না আসায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান ও যোগদানের আদেশ জারির মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।