
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পলাতক থাকা আরও এক শুটারকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ভোরে নরসিংদী থেকে রহিম নামের ওই শুটারকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের টিম এখনো অপারেশনে রয়েছে, আমরা অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এর আগে ১১ জানুয়ারি ডিবির পক্ষ থেকে ‘শুটার’ জিন্নাতসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছিল। সে সময় রহিম পলাতক থাকলেও সর্বশেষ অভিযানে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
গত ৭ জানুয়ারি রাতে তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আজিজুর রহমান মুসাব্বির। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আবারও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন মুসাব্বির।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২) ৭ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রতিদিনের মতো সেদিনও মুসাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডা শেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর তেজতুরী বাজারের আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার গতিরোধ করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় সঙ্গে থাকা সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ মুসাব্বিরকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও গুলি করা হয়। হামলাকারীরা দুজনকেই মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।