
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নানা জটিলতা পেরিয়ে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৪ জন পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপক পদে যোগদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মোট ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ড সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তী যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ২৩ জনকে অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তির কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ শিক্ষককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনজন সিন্ডিকেট সদস্য দাবি করেন, ড. আবদুল কাইউমকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগসহ তার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানান। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া একাধিক শিক্ষক জানান, রোববার আনুষ্ঠানিক যোগদানের সময় ২৩ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ড. আবদুল কাইউমকে দেখা যায়নি।
এদিকে, ২৪ শিক্ষকের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও গণঅভ্যুত্থানবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, একজনকে বাদ দিয়ে বাকিদের পদোন্নতি দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে—এমন শিক্ষকদের বিষয়ে আগে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করে পরে পদোন্নতি দেওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া ২৩ শিক্ষক হলেন—ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস, ড. মো. মাসুদ পারভেজ, ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, ড. ধীমান কুমার রায়, ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, ড. সুব্রত কুমার দাস, ড. হাফিজ আশরাফুল হক, ড. ইশরাত জাহান, ড. মো. শফিউল আলম, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ড. বিজন কৃষ্ণ সাহা, ড. হেনা রানী বিশ্বাস, ড. আবদুল্লাহ আল মাসুদ, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড. তাজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী, ড. মো. আলমগীর মোল্লা, ড. মো. সাদেকুর রহমান, ড. তারেক মাহমুদ আবীর, ড. মো. জামাল উদ্দীন এবং ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।